আমেরিকায় ডেল্টার হানা, গত ৭ দিনে গড়ে আক্রান্ত ১৩,৮৫৯

আমেরিকায় ডেল্টার হানা

জাস্ট দুনিয়া ডেস্ক: আমেরিকায় ডেল্টার হানা, যা থেকে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। দ্বিতীয় ঢেউ যখন ভারতসহ বেশ কিছু দেশকে রীতিমতো মৃত্যু মিছিলের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল তখন গোটা আমেরিকা তাদের এই দ্বিতীয় ঢেউকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছিল। সঙ্গে দ্রুত টিকাকরণও সে দেশকে কোভিড আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচিয়েছিল। এর পর প্রশাসনের তরফে এও বলা হয়েছিল, সম্পূর্ণ টিকাকরণ হয়ে গেলে মাস্ক ছাড়াই বাইরে যাওয়া যাবে। কিন্তু হঠাৎই সেখানে কোভিড আতঙ্ক আবার ছড়িয়ে পড়েছে। আর সেখানে এখন ছড়াচ্ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।

বুধবারের তথ্য বলছে গত সাতদিনে সে দেশে গড়ে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩,৮৫৯ জন। যা গত দু’সপ্তাহের আগের নিরিখে ২১ শতাংশ বেশি। সেন্টার্স ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তরফে এমনই তথ্য দেওয়া হয়েছে। ৪ জুলাই হলিডে উইকএন্ড থাকায় এই আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ৫২ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছিলেন ৭০ শতাংশ ১৮ ঊর্ধ্বরা স্বাধীনতা দিবসের মধ্য একটা অংশ ভ্যাকসিনের পেয়ে যাবে। কিন্তু সেই লক্ষ্য তিনি পৌঁছতে ব্যর্থ। এখনও পর্যন্ত সেযা ৬৭ শতাংশই হয়েছে। কিছু জায়গায় ভেল্টিলেটরের সঙ্কটও দেখা দিতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। সদ্য সেরে ওঠা দেশগুলোকে নতুন করে আতঙ্ক দিচ্ছে আমেরিকার পরিস্থিতি। প্রশ্ন উঠছে তৃতীয় ঢেউয়ের শুরু কি তাহলে হয়ে গেল?

আমেরিকার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াতেও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের আক্রমণ নতুন করে সঙ্কট তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলে ২০২১-এর সব থেকে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে একদিনে। সিডনিতে গত দু’সপ্তাহের লকডাউন শেষেও কোভিড আক্রান্ত বাড়ায় নতুন করে লকডাউন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, লকডাউন থাকলেও কাছাকাছি আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যাওয়া-আসা এর কারণ হতে পারে।

যদিও অন‌্যান্য দেশের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার আক্রান্ত ও মত্যুর সংখ্যা অনেকটাই কম। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০,৯০০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৯১০ জনের। কিন্তু সে দেশের মন্থর টিকাকরণ ভাবাচ্ছে প্রশাসনকে।

প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জানিয়েছেন, যদি লকডাউনের সময়সীমা বাড়াতে হয় তাহলে সরকারের তরফে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা হবে। তিনি বলেন, ‘‘আমি জানি মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন… হতাশ হয়ে পড়ছেন‌। এটা এমন একটা ভাইরাস যার সঙ্গে আমরা লড়াই করছি এবূং যা আমাদের জীবনের নিয়ম বেঁধে দিয়েছে।’’ তিন সপ্তাহের কিছু বেশি সময় আগে সিডনিতে প্রথম আক্রান্ত ধরা পড়ার পর এদিন তা পৌঁছে গিয়েছে ৪০০তে। বিদেশ থেকে আসা বিমান কর্মীদের থেকেও ছড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

(প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবরে)

(জাস্ট দুনিয়ার ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন)