অবসরে মহেন্দ্র সিং ধোনি, আর দেখা যাবে না ভারতের জার্সিতে

অবসরে মহেন্দ্র সিং ধোনিমহেন্দ সিং ধোনি

জাস্ট দুনিয়া ডেস্ক: অবসরে মহেন্দ্র সিং ধোনি বিদায় জানালেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে। প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই অবসরের কথা ঘোষণা করেন। মহেন্দ সিং ধোনি তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘‘এত দিন ধরে আপনাদের ভালবাসা এবং সমর্থনের জন্য অনেক ধন্যবাদ। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে আমাকে অবসরপ্রাপ্ত বলেই ধরে নেবেন।’’

একদিন হঠাৎই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন আর টেস্ট ক্রিকেট খেলবেন না তিনি। তখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলছিল ভারত। রাতারাতি অধিনায়কত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল বিরাট কোহলির হাতে। বিদেশের মাটিতেই খুলে রেখেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের সাদা জার্সি। কিন্তু সেই সময় একদিনের ম্যাচ ও টি২০ খেলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সঙ্গে অধিনায়কত্বেরও। সেটা যেমন চমক ছিল তেমনই চমক ছিল এমএস ধোনির লিমিটেড ওভারের ক্রিকেটের অধিনায়কত্ব ছাড়ার দিনটি। এ বারটা তার থেকে অনেকটাই চমকহীন।

২০১৯ বিশ্বকাপই যে ধোনি যুগ শেষের কাহিনী লিখতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট, তা অনেকদিন আগেই বোঝা গিয়েছিল। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষের পর কেটে গিয়েছে একটা বছর। নিশ্চই ভেবেছিলেন টি২০ বিশ্বকাপ খেলেই অবসর নেবেন কিন্তু তেমনটা হল না। কোভিড-১৯ অতিমারি সব পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিল। টি২০ বিশ্বকাপ পিছিয়ে গিয়েছে। পিছিয়ে গিয়েছে আইপিএল। তবে শেষ পর্যন্ত এই বছরই হচ্ছে। তাই আইপিএল-এর শিবির শুরুর দিনই অবসরের কথা জানিয়ে দিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। শেষ হল বিশ্বের সেরা ফিনিশারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের।

ধোনির সেই ইনস্টাগ্রাম পোস্ট…

View this post on Instagram

Thanks a lot for ur love and support throughout.from 1929 hrs consider me as Retired

A post shared by M S Dhoni (@mahi7781) on

এই এমএস ধোনির অধিনায়কত্বে বিশ্বকাপের ময়দান থেকে অবসর নিয়েছিলেন সচিন তেন্ডুলকর। জিতে ক্রিকেটের জার্সি খুলে রেখেছিলেন তিনি। ধোনির ভাগ্যটা কিছুটা খারাপ। পুরো বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে সেরাটা উঠে আসেনি। বার বার সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। আবারও উঠে এসেছে অবসর প্রসঙ্গ। মন্থর ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। সেই ধোনি থামলেন।

ভারতীয় ক্রিকেটের সফলতম অধিনায়ক। তাঁর অধিনায়কত্বে আইসিসির গুরুত্বপূর্ণ সব ট্রফি জিতেছে ভারত। সে ২০১১ সালে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ হোক বা ২০০৭ সালে টি২০ বিশ্বকাপ। বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সবই এসেছে ধোনির হাত ধরে। উইকেটে পিছনে তাঁর গতিকে যে কোনও উইকেট কিপার হিংসা করবেন। আর যে কোনও দলের সম্পদ ওই গতি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাতে আরও ধার বেড়েছে।

ভারতের জার্সিতে এমএস ধোনির অভিষেক হয়েছিল চেন্নাইয়ের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে  ২০০৫-এর ২ ডিসেম্বর। তিনি শেষ টেস্ট খেলেন ২০১৪-র ৩০ ডিসেম্বর মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। একদিনের ম্যাচে ধোনির অভিষেক হয়েছিল চট্টগ্রামে ২৩ ডিসেম্বর ২০০৪-এ  বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। শেষ হয়ে গেল ২০১৯-এর ১০ জুলাই ম্যানচেস্টারে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মঞ্চে। টি২০ অভিষেক হয়েছিল ২০০৬-এর ১ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জোহানেসবার্গে। শেষ ম্যাচ খেলেছেন ২০১৯-এর ২৭ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে।

ভারতের জার্সিতে ৯০টি টেস্ট খেলেছেন তিনি। রান করেছেন ৪৮৭৬। সর্বোচ্চ রান ২২৪, গড় ৩৮.০৯। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ছ’টি সেঞ্চুরি, ৩৩টি হাফ সেঞ্চুরি ও একটি ডবল সেঞ্চুরি। ৩৫১টি ওডিআই ম্যাচে ১০৭২৩ রান করেছেন ধোনি। সর্বোচ্চ ১৮৩, গড় ৫০.৫৮। সেই তালিকায় রয়েছে ১০টি সেঞ্চুরি ও ৭২টি হাফ সেঞ্চুরি। ৯৮টি টি২০তে ১৬১৭ রান করেছেন, সর্বোচ্চ ৫৬, গড় ৩৭.৬।

২০০৫ থেকে ২০১৯, দীর্ঘ ১৪ বছরের লড়াই, প্রাপ্তি, ভাল থাকা, মন্দ থাকা, মানুষের ভালবাসা, মানুষের ধিক্কার, সাফল্যের শিখরে পৌঁছনো, সেখান থেকে ছিটকে যাওয়া, সবই রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। আর থেকে যাবে এক সফলতম, ঠান্ডা মাথার অধিনায়কের প্রতিভূ হয়ে। যা ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা। তাই বিরাট কোহলি আজও বলতে পারেন, ‘‘আমার অধিনায়ক ধোনিই।”

(খেলার জগতের আরও খবর জানতে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে)

(জাস্ট দুনিয়ার ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন)