দুই প্রতিবেশী দেশের ফুটবল-যুদ্ধ, দোহার মাঠে মুখোমুখি ভারত-বাংলাদেশ

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ড্র

জাস্ট দুনিয়া ডেস্ক: দুই প্রতিবেশী দেশের ফুটবল-যুদ্ধ — সোমবার দোহায় বিশ্বকাপ ও এশীয় কাপ বাছাই পর্বে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচে এমনই এক ‘ট্যাগ’ বসানো যেতে পারে। ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ নিয়ে তো আলাদা করে এক ঐতিহাসিক অধ্যায় লেখা যায়। ফুটবল মাঠে এই দুই দেশের তেমন দেখা-সাক্ষাৎ হয় না ঠিকই। কিন্তু আর এক প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ফুটবল-সম্পর্ক এখন যে জায়গায় পৌঁছেছে, তাতে এর মধ্যেও উত্তেজনার বারুদ মিশতে শুরু করেছে। সোমবার ফের সেই বারুদের হাল্কা গন্ধে মাখা ফুটবল-দ্বৈরথ দেখতে চলেছে জাসিম বিন হামাদ স্টেডিয়াম। যার ফল কী হবে, তা আগাম বলার ঝুঁকি বোধহয় কেউই নিতে চাইবেন না।

দুই দলই যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে সোমবার। ভারত যেমন শক্তিশালী, এশীয়সেরা কাতারের বিরুদ্ধে ০-১-এ হেরেও সমীহ আদায় করে নিতে পেরেছে দুর্দান্ত রক্ষণ ও গোলকিপিংয়ের জন্য। তেমনই, বাংলাদেশ গত ম্যাচে তাদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী আফগানিস্তানকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে প্রশংসিত হয়েছে। তাই একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার সময় আত্মবিশ্বাসের অভাবে কেউ ভুগবে না। ওই ৯০ মিনিটে মাথা ঠাণ্ডা রেখে নিজেদের পরিকল্পনা কাজে লাগিয়ে কারা কতটা ভাল খেলতে পারবে, তার ওপরেই নির্ভর করবে সব কিছু।

সেই ১৯৯৯-এর সাফ গেমসে ভারতকে ফুটবল মাঠে শেষবার হারিয়েছিল পদ্মা পারের দেশ। তার আগে ১৯৯১-এ সেই সাফ গেমসেই। বাকি ১২ বারে ড্র ও ১৫ বারে হার। গত তিন বারের মুখোমুখিতেই ড্র। বাংলাদেশীদের তাতানোর পক্ষে এই পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। তবে শুধু তেতে রইলে তো আর জেতা সম্ভব নয়। চাই নিখুঁত প্রস্তুতি ও সেই অনুযায়ী মাঠে নেমে পরিকল্পনা কার্যকর করা। পারবে তারা এই কাজটা করতে?

বাংলাদেশের ইংরেজ কোচ জেমি ডে-র মতে, “ভারত যথেষ্ট ভাল দল। বিশ্ব ক্রমতালিকায় ওরা আমাদের চেয়ে অনেক ওপরে। বাংলাদেশের মতো দলকে হারানোর ক্ষমতা ওদের আছে। মানের দিক থেকে দুই দলের মধ্যে ফারাক আছে ঠিকই, তবে কলকাতায় আমরা খুবই ভাল খেলেছিলাম। সে দিন বোধহয় দিনটা ওদের (ভারত) ভাল ছিল না”।

কোচ এ কথা বললেও মাঠে নামার আগে দুর্বল হতে রাজি নন বাংলাদেশের অধিনায়ক জামাল ভুঁইঞা। গত ম্যাচে ১-১ ড্রয়ের প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি এআইএফএফ মিডিয়াকে বলেছেন, “এই ম্যাচে জোর লড়াই হবে। এই ম্যাচে খেলতে পারাটা আমার কাছে গর্বের বিষয়। গতবার কলকাতায় তিন পয়েন্ট না পেয়ে আমরা খুব হতাশ হয়েছিলাম। ভারত একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল শোধ করে দেয়। এখনও খিদেটা রয়েছে আমাদের মধ্যে। আমি জানি, আমরা যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারি, তা হলে ওদের সমস্যায় ফেলতে পারি”। তবে এই ম্যাচে বাংলাদেশ পাবে না তাদের নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার সোহেল রাণাকে। গত ম্যাচে তাঁর হাতের হাড়ে চিড় ধরায় তিনি এই বাছাই পর্বেই খেলতে পারবেন না।

ভারতীয় দলের কোচ ইগর স্টিমাচ রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “ওরা ওদের কড়া রক্ষণে প্রায়ই ব্লক করে বিপক্ষকে বিরক্ত করে তোলে। কাতারের বিরুদ্ধে আমরা যেটা করেছি, অনেকটা সে রকমই। আসলে ফুটবলে মাঝে মাঝে বিপক্ষকে এ ভাবে বিরক্ত করে তোলাটা খুব জরুরি হয়ে পড়ে। বিপক্ষকে বেশি পাস করতে না দিয়ে তাদের অধৈর্য্য করে তুলতে হয়। বাংলাদেশ প্রতিটা পয়েন্টের জন্য লড়াই করছে। আর যা করে, তা দল হিসেবে করে”।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গত ম্যাচের একমাত্র গোলদাতা আদিল খান সেই ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে রবিবার সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “সেই ম্যাচে আমরা সব রকম চেষ্টা করেও বাংলাদেশের রক্ষণে চিড় ধরাতে পারিনি। হাফ টাইমে এক গোলে পিছিয়ে থাকার পরে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা অল আউট গিয়েও গোল করতে পারিনি। মনে হচ্ছিল, দিনটা আমাদের নয়”। সোমবার রাহুল ভেকের জায়গায় আদিলকে প্রথম এগারোয় দেখা যেতে পারে।

কাতারের বিরুদ্ধে সুনীল ছেত্রী-সহ বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলারকে প্রথম এগারোয় রেখেছিলেন ভারতীয় কোচ স্টিমাচ। সুনীলকে ৪৫ মিনিটের বেশি খেলাননি তিনি। পরের দিকে যখন রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে লিস্টন কোলাসো, সাহাল আব্দুল সামাদ, লালেঙমাউইয়া, আকাশ মিশ্রর মতো কয়েকজন তরুণ ফুটবলারকে নামান তিনি, তখন ভারতের খেলায় অনেকটা গতি আসে। কাতারকে রোখা ছাড়াও পাল্টা আক্রমণে ওঠার প্রবণতা দেখা যায় তাঁদের মধ্যে। সোমবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এই তরুণদের নিয়েই প্রথম একাদশ তৈরি করবেন কি না স্টিমাচ, সেটাই দেখার।

(প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবরে)

(জাস্ট দুনিয়ার ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন)

(লেখা ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ওয়েবসাইট থেকে)