আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ড্র করে এশীয় কাপ বাছাই পর্বের তৃতীয় রাউন্ডে ভারত

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ড্র

জাস্ট দুনিয়া ডেস্ক: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ড্র করল ভারত। খেলার ফল ১-১।  এক গোলে এগিয়ে গিয়েও সেই ব্যবধান ধরে রাখতে পারল না ভারত। যদিও এই ড্রয়ের মাশুল দিতে হয়নি ভারতকে। বিশ্বকাপ ২০২২ ও এশিয়ান কাপ ২০২৩-এর বাছাই পর্বে গ্রুপের তিন নম্বর দল হিসেবে সুনীল ছেত্রীরা চলে গেলেন এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের তৃতীয় রাউন্ডে। মঙ্গলবার দোহার জাসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পরে ৭৫ মিনিটের মাথায় আফগান গোলকিপার ওভাইস আজিজির আত্মঘাতী গোলে ভারত এগিয়ে যাওয়ার দশ মিনিট পরে আফগানিস্তানের পরিবর্ত খেলোয়াড় হোসেইন জামানি দর্শনীয় গোল করে সমতা আনেন।

প্রত্যাশা অনুযায়ী ভারতকে এ দিন সে ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে দেয়নি আফগানিস্তান। দুই দলের বল পজেশন প্রায় সমান (৫২-৪৮) ছিল। গোলে শটের দিক থেকে ভারত কিছুটা এগিয়ে (১০-৮) থাকে। কিন্তু আফগানদের সে ভাবে চাপে ফেলতে পারেনি সুনীল ছেত্রীরা। বরং দু-একবার নিজেরাই প্রবল চাপে পড়ে যান তাঁরা।

বিশ্বকাপের আশা আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। গত ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে জেতার পরে আত্মবিশ্বাসী ভারতের এ দিন ড্র পেলেই এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের তৃতীয় রাউন্ডে উঠতে পারত। কিন্তু ভারতীয় দলের কোচ ইগর স্টিমাচ সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর দল জেতার কথা ভেবেই মাঠে নামবে। কিন্তু শুরু থেকে আফগানদের পারফরম্যান্সে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল, ভারতের পক্ষে কাজটা মোটেই সোজা হবে না।

শুরুর দিকে আফগানদের কিছুটা পরখ করে নিয়ে চাপ বাড়াতে শুরু করে ভারত। ১১ মিনিটের মাথায় গ্ল্যান মার্টিন্সের দেওয়া পাসে সুনীল ছেত্রী বাঁপায়ে গোলে শট নেন, যা বাঁচিয়ে দেন আজিজি। তার ঠিক আগের মুহূর্তেই ব্রেন্ডনের কর্নারে সন্দেশ ঝিঙ্গন মাথা ছোঁয়ালেও তা ক্লিয়ার করে দেন জোহিব আমিরি।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি পরপর অনেকগুলো কর্নার পায় ভারত। কিন্তু আফগানদের রক্ষণের তৎপরতায় কোনওবারই সফল হননি সুনীলরা। একবার ভারত অধিনায়ক ব্যর্থ হন, পরে রাহুল ভেকের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। আরও একবার সুযোগ তৈরির জন্য সুনীল, মনবীররা তৈরি থাকলেও তাঁদের কাছে নিখুঁত ক্রসে বল পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হন আশিক কুরুনিয়ান।

৩১ মিনিটের মাথায় যখন কাউন্টার অ্যাটাকে ঝড় তোলে আফগানিস্তান, তখনই অশনি সঙ্কেত দেখতে পায় ভারত।  ৪১ মিনিটের মাথায় অসাবধানী ভারতকে বিপদের হাত থেকে বাঁচান গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধু। আমরেদ্দিন শরিফির গোলমুখী শট অসাধারণ ভাবে বাঁচিয়ে দেন তিনি। এই সময়ে আফগানরা হঠাৎ বিপক্ষের ওপর পাল্টা চাপ দেওয়া শুরু করে, যার ফলে বেশ চাপে পড়ে যান সন্দেশ ঝিঙ্গনরা। তবে শেষ পর্যন্ত গোল করতে পারেনি তারা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও দুই দলের পারফরম্যান্স ও মানসিকতায় খুব একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। ৬১ মিনিটের মাথায় ব্রেন্ডন গোলে দূরপাল্লার শট নিলেও তা জোহিব ইসলাম হেড করে উড়িয়ে দেন। ৬৮ মিনিটের মাথায় কুরুনিয়ানকে অন্যায় ভাবে বাধা দেন আমিরি। সেই ঘটনায় পাওয়া ফ্রি কিকে সুনীল গোলে শট নিলে তা ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে যায়।

এ দিন পুরো ম্যাচে সুনীলকে খেলাননি স্টিমাচ। ৬৯ মিনিটের মাথায় তাঁকে বসিয়ে লিস্টন কোলাসোকে নামান তিনি। মাঠে নেমেই গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেন কোলাসো। কিন্তু তাঁর বাড়ানো বলের নাগাল পাননি সুরেশ।

৭৫ মিনিটে বহু প্রতিক্ষার পরে গোল পেয়ে যায় ভারত, তবে নিজেদের কৃতিত্বে নয়, আফগান গোলকিপার আজিজির ভুলে। বাঁ দিক দিয়ে ওঠা আশিকের ক্রস ধরতে যাওয়া আজিজির হাত ফস্কে বল গোলে ঢুকে যায়। ভারতীয় শিবির এই গোল পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও সাত মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি তাদের এই স্বস্তি। ৮২ মিনিটের মাথায় ভারতের বক্সের বাঁ দিক থেকে কাট করে দেওয়া নুর হুসিনের ব্যাকপাস পেয়ে গোলে কোনাকুনি শট নেন জামানি, গুরপ্রীত যার নাগাল পাননি।

ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফের ব্যবধান তৈরির চেষ্টা করে ভারত। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে মনবীর সিংয়ের হেড বারের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। এটাই ছিল এ দিনের ম্যাচের শেষ সহজ সুযোগ। ফলে এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ভারতকে। তাতে অবশ্য তাদের পরবর্তী ধাপে পৌঁছনো আটকায়নি।

ভারতীয় দলগুরপ্রীত সিং সান্ধু (গোল), সন্দেশ ঝিঙ্গন, চিঙলেনসানা সিং, শুভাশিস বসু, রাহুল ভেকে, ব্রেন্ডন ফার্নান্ডেজ (লালেঙমাউইয়া), গ্ল্যান মার্টিন্স, সুরেশ ওয়াঙজাম, আশিক কুরুনিয়ান (বিপিন সিং), সুনীল ছেত্রী (লিস্টন কোলাসো), মনবীর সিং।

(লেখা ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ওয়েবসাইট থেকে)

(প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবরে)

(জাস্ট দুনিয়ার ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন)