গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্য শেষ পর্যন্ত আইএসএল-এ লাল-হলুদ জার্সিতেই

গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্য

জাস্ট দুনিয়া ডেস্ক: গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্য  সব জল্পনার শেষে এসসি ইস্টবেঙ্গলে সই করলেন। গত মরশুমে এটিকে মোহনবাগানের রানার্স হয়ে ওঠার পিছনে যাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল, তাঁকে এ বার তাদেরই প্রতিদ্বন্দী ক্লাব নিয়ে এল নিজেদের শিবিরে। সোমবার সন্ধ্যায় ক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁর সইয়ের খবর ঘোষণা করা হয়। এক বছরের জন্য তাঁকে চুক্তিবদ্ধ করল লাল-হলুদ বাহিনী। গত হিরো আইএসএল ফাইনালে মুম্বই সিটি এফসি-র কাছে এটিকে মোহনবাগান হারলেও তাদের গোলকিপার মুম্বইয়ের অমরিন্দর সিংকে পিছনে ফেলে গোল্ডেন গ্লাভের দৌড়ে এক নম্বরে চলে যান অরিন্দম। তবে এই বছর অমরিন্দর এটিকে মোহনবাগানে যোগ দেওয়ার পরে ছবিটা পাল্টাতে শুরু করে।

লিগের দুই সেরা গোলকিপারের একই দলে থাকা নিয়ে দেশের ফুটবল মহলে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তা হচ্ছে না। বরং দুই চিরপ্রতিদ্বন্দী ক্লাব যখন মুখোমুখি হবে, তখন সেই কলকাতা ডার্বির অন্যতম আকর্ষণের বিষয় হয়ে উঠবে অরিন্দম ও অমরিন্দরের দ্বৈরথ। ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিয়ে অরিন্দম জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের সদস্যরা যে সবাই লাল-হলুদ সমর্থক এবং তাঁদের ইচ্ছার কথা মাথায় রেখেই তিনি শেষ পর্যন্ত এসসি ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। অরিন্দম এ দিন বলেন, “আমার বাবা, দাদু— এঁরা সবাই ইস্টবেঙ্গল সমর্থক। কিন্তু এই ১৬ বছরের ফুটবল জীবনে আমি কখনও এই ক্লাবের হয়ে খেলিনি। তাই এ বার যখন সুযোগ এল, সেটা হাতছাড়া করতে চাইনি”।

সমর্থকদের আব্দারের কথা মাথায় রেখেও তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। বলেন, “প্রচুর মেসেজ পেয়েছি, সবাই বলছেন, ‘দাদা, কলকাতা ছেড়ে যেও না’। সত্যি বলতে, সমর্থকদের এত অনুরোধই আমাকে এখানে আসার প্রেরণা জোগায়”। সোমবার নতুন ক্লাবে যোগ দিয়ে অরিন্দম আরও বলেছেন, “এই ক্লাবে যোগ দিয়ে আমার খুব ভাল লাগছে। এসসি ইস্টবেঙ্গলকে যথাসম্ভব বেশি ম্যাচ জেতানোই হবে আমার উদ্দেশ্য। ড্রেসিংরুমকে ঐক্যবদ্ধ রাখারও চেষ্টা করব। এই ক্লাবের ঐতিহ্যের কথা আমরা সবাই জানি। সেই ঐতিহ্য যাতে বজায় থাকে, সেই চেষ্টা প্রতিদিনই থাকবে আমার”।

২০১৮-১৯ মরশুমের আগে গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্য মুম্বই সিটি এফসি থেকে এটিকে এফসি-তে যোগ দেন। সেই বছর থেকেই কলকাতার দলের এক নম্বর গোলকিপার তিনি। ২০১৯-২০ মরশুমে চ্যাম্পিয়ন এটিকে দলের সদস্য ছিলেন। গত মরশুমেও অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান ও টানা দ্বিতীয় বার হিরো আইএসএল ফাইনালে খেলেন। ২৩ ম্যাচে ৫৯টি সেভ ছিল তাঁর। ১৯টি গোল খান। গত বছর লিগ পর্বে এটিকে মোহনবাগান সবচেয়ে কম গোল (১৬) হজম করে। তার আগের মরশুমেও ২০ ম্যাচে ৫৩টি সেভ করেছিলেন ও ১৭টি গোল খেয়েছিলেন অরিন্দম।

(খবর আইএসএল ওয়েবসাইট থেকে)

(প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবরে)

(জাস্ট দুনিয়ার ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন)