বর্ষায় মশার কামড় নিয়ে আসতে পারে মারণ রোগ, বাঁচবেন কী করে

বর্ষায় মশার কামড়

জাস্ট দুনিয়া ডেস্ক: বর্ষায় মশার কামড় থেকে বাঁচার সত্যিই কোনও উপায় নেই? প্রতিবার বর্ষা আসে আর বিখ্যাত কলকাতার মশার দাপটে প্রান ওষ্ঠাগত হয়ে ওঠে মানুষের। আর এখন তার মধ্যে কোভিড পরিস্থিতিতে আমরা ভুলেই গিয়েছি বর্ষার সময় মশাবাহিত রোগও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাই এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে কোভিডের পাশাপাশি বড় বিপদ ডেকে আনতে পারেন আপনি নিজেই। সব থেকে বড় কাজ হল নিজের বাড়ি এবং তার আশপাশকে মশামুক্ত রাখা। কারণ কোভিড পরিস্থিতিতে সকলেরই বেশিরভাগ সময়টাই কাটে বাড়িতেই।

বর্ষার সময় এমনিতেই ঘর-বাড়ি স্যাতস্যাতে হয়ে থাকে। তাতে মশা, মাছি, পোকামাকড়ের তো দারুণ মজা। জমিয়ে তারা সংসার পাতে। কিন্তু সেটা হতে দেওয়া যাবে না। বাড়িতে শুকনো রাখতে হবে। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠেই খুলে দিন সব জানলা-দরজা।আসতে দিন বাইরের হাওয়া, রোদ। তাতে ঘরের ভিতরের ভ্যাপসা ব্যাপারটা কমবে। ঘরে ভেজা জামা-কাপড় থাকলে সকালে উঠে তা বাইরে ব্যালকনি বা ছাদে দিয়ে দিন। আর বৃষ্টি থাকলে জোড়ে ফ্যান চালিয়ে তার তলায় দিয়ে শুকিয়ে নিন দ্রুত। এতে বাড়ির স্যাতস্যাতে ভাব অনেকটাই কমবে।

তবে মশা থেকে মুক্তি পেতে দেখবেন বাড়ি ও তা সংলগ্ন কোনও অংশে যেন জল জমে না থাকে। থাকলেই সেখানেই মশারা সংসার পাতবে নিশ্চিত। মশা তাড়াতে ভুল করেও কয়েল বা ধূপ ব্যবহার করবেন না। তাতে শ্বাস কষ্টের সমস্যা হতে পারে। বাচ্চাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বরং মশার অয়েল ব্যবহার করুন, স্প্রে করে কিছুক্ষণ সেই ঘরে যাবেন না। দরজা বন্ধ করে রেখেদিন। বিকেল বিকেল ঘরের সব দরজা-জানলা বন্ধ করে দিন। কারণ মশারা দিনের সংযোগ সময়কেই বেছে নেয় বহির্জগৎ ছেড়ে বাড়ির অন্দরে ঢুরে পড়ার জন্য।

মশা তাড়াতে বাজারে অনেক দামি দামি বস্তু, তেল, স্প্রে রয়েছে। পিপারমেন্ট অয়েল, ক্যাটনিপ অয়েল বা লেমন ইউক্যালিপটাস অয়েল। অনেকের আবার এই সবে অ্যালার্জিও হয়। সব পকেটও সব সময় সঙ্গ দেবে না। আর কলকাতা শহরের মশা বর্ষায় বাড়লেও সারা বছরই থাকে। এবং মরসুম পরিবর্তনের সময় মশার বংশবৃদ্ধি হয়। যেমন গরম কেটে যখন শীত পড়ছে তখন মশার প্রকোপ বেড়ে যায়। আবার শীত শেষে যখন গরম ঢুকবে ঢুকবে করছে তখনও। তাই সারা বছরই মশা থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে হয়।

এই অবস্থায় জানলায় নেট লাগান। তাহলে নিশ্চিন্তে যেমন জানলা খুলে রাখতে পারবেন, ঘরে আলো-বাতাসও খেলবে আর মশারাও বাইরে থেকে ঢুকতে পারবেন না। ঘর মুছুন জলে কয়েক ফোটা ডেলট দিয়ে। ডেটল জল দিয়ে জানলা-দরজা মুছুন মাঝে মাঝেই। তাতে মশার পাশাপাশি অন্য পোকা-মাকড়ও দূরে থাকবে। আগেকার দিনে বাড়িতে সন্ধেবেলায় ধূপধুনো দেওয়া হত। সেই ধোয়াতেও মশা পালায়। তাতে কোনও ক্ষতি হয় না। তাই সেটাও চেষ্টা করতে পারেন। তার মধ্যে একটু কর্পূর ফেলে দিন। ঘরের স্যাতস্যাতে গন্ধের সঙ্গে সঙ্গে পালাবে মশাও।

আরও একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন, যদি বাথরুমে জল ধরে রাখার প্রয়োজন না হয় তা হলে রাখবেন না। ব্যবহারের পর জল ধরার সব বালতি, গামলা উল্টো করে রেখেদিন যাতে জল ঝড়ে যায়। বেসিনে ন্যাপথলিন ব্যবহার করুন। প্যানের পাশেও ন্যাপথলিন রাখুন। ফ্রিজের পিছনে জল জমে সেটা মাঝে মাঝে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন। ঘর পরিষ্কার রাখুন।

(প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবরে)

(জাস্ট দুনিয়ার ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন)