‘গজনি’র বাস্তব রূপ দেখল বিহার, চাইল্ড ট্র্যাফিকিংকে ধরিয়ে দিল এক যাত্রী

‘গজনি’র বাস্তব রূপ দেখল বিহার

জাস্ট দুনিয়া ডেস্ক: ‘গজনি’র বাস্তব রূপ দেখল বিহার। আমির খানের ‘গজনি’ সিনেমার কথা নিশ্চই সবার মনে আছে। সেখানে একটা দৃশ্য ছিল, ট্রেন করে গোয়া যাচ্ছে নায়িকা। তিনি হঠাৎ আবিষ্কার করেন সিটের তলায় ভয়ে লুকিয়ে রয়েছে একটি বাচ্চা মেয়ে। ফাকা ট্রেনে সেই মেয়ের থেকে নায়িকা জানতে পারেন, তার মতো আরও অনেককে পাচারের জন্য নিয়ে যাচ্ছে একটি দল। সে কোনও ক্রমে পালিয়ে অন্য কোচে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এই খবর জানতে পেরে পুলিশকে ফোন করে নায়িকা। তার পর উদ্ধার হয় মেয়েরা। আর সেই কারণে খুন হতে হয় নায়িকাকে।

এটা তো ছিল সিনেমা। কিন্তু সেই একই দৃশ্য যে বাস্তবে এ ভাবে উঠে আসবে তা কে জানত। এমনটাই ঘটেছে মুজাফরপুর-বান্দ্রা অবধ এক্সপ্রেসে। এ বারও এক যাত্রীর উদ্যোগেই উদ্ধার হয়েছে একদল নাবালিকা।  ৫ জুলাই ওই একই ট্রেনের এস-ফাইভ কোচে ট্র্যাভেল করছিলেন সেই যাত্রী। সেখানেই তিনি দেখতে পান একটি বাচ্চা মেয়ে বসে কাঁদছে। তার মধ্যে অস্বাভাবিকত্বও দেখতে পান তিনি। আর এই ঘটনা সঙ্গে সঙ্গেই টুইট করে দেন সেই ব্যক্তি।

 ইতিহাস গড়ে পাকিস্তানের নির্বাচনে হিন্দু মহিলা

সেই টুইট দেখে সঙ্গে সঙ্গেই বেনারস ও লখনউ স্টেশনে জিআরপিকে সচেতন থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়া এই বার্তা পৌঁছনোর আধ ঘণ্টার মধ্যেই জিআরপি ও আরপিএফ নেমে পড়ে উদ্ধার কাজে। গোরক্ষপুর জিআরপি চাইল্ড লাইন ও পুলিশের অ্যান্টি ট্র্যাফিকিং ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। কাপ্তানগঞ্জ থেকে সাদা পোষাকের দু’জন আরপিএফ সেই ট্রেনে ওঠেন। এবং পুরো ব্যাপাকে নজর রাখেন গোরক্ষপুর পর্যন্ত।

আমির খানের ‘গজনি’ সিনেমার কথা নিশ্চই সবার মনে আছে। সেখানে একটা দৃশ্য ছিল, ট্রেন করে গোয়া যাচ্ছে নায়িকা। তিনি হঠাৎ আবিষ্কার করেন সিটের তলায় ভয়ে লুকিয়ে রয়েছে একটি বাচ্চা মেয়ে। ফাকা ট্রেনে সেই মেয়ের থেকে নায়িকা জানতে পারেন, তার মতো আরও অনেককে পাচারের জন্য নিয়ে যাচ্ছে একটি দল।

গোরক্ষপুর স্টেশনে ট্রেন পৌঁছতেই ধরে ফেলা হয় পুরো দলকে। সেখানে ছিল ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সের ২৬ জন নাবালিকা। এবং দু’জন ২২ ও ৫৫ বছরের লোক। সকলেই বিহারের পশ্চিম চম্পারণের বাসিন্দা। এই মেয়েদের নারকাটিয়াগঞ্জ থেকে ইদগা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মেয়েদের প্রশ্ন করা হলে তারা কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি। তাদের চাইল্ড ওয়েল ফেয়ার কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের পরিবারকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ওই দুই ব্যাক্তিকে।