বিরাট কোহলির মেয়ে-কে হুমকি দেওয়া ব্যক্তি আইআইটি হায়দরাবাদের স্নাতক

বিরাট কোহলির মেয়ে

জাস্ট দুনিয়া ডেস্ক: বিরাট কোহলির মেয়ে-কে কিছুদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘রেপ থ্রেট’ দিয়েছিল এক ব্যক্তি। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের কাছে টি২০ বিশ্বকাপে পর পর হারের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা রকমের অশালীন মন্তব্যের বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু বিরাট কোহলির ৯ মাসের কন্যাকে রেপের হুমকি কেউই ভালভাবে নেয়নি। দেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে। শেষ পর্যন্ত হায়দরাবাদ থেকে এই অপরাধে যাকে গ্রেফতার করা হল তার ব্যাকগ্রাউন্ড দেখলে চোখ কপালে উঠবে। ২৩ বছরের রাম নাগেশ শ্রীনিবাস আকুবাথিনি, একজন সফটওয়্যাল ইঞ্জিনিয়ার। পাস করেছেন আইআইটি হায়দরাবাদ থেকে।

একমাস আগেও কাজ করতেন বিখ্যাত খাবার ডেলিভারি অ্যাপ সংস্থায় বেঙ্গালুরুতে। কিন্তু চাকরী ছেড়ে সম্প্রতি মাস্টার ডিগ্রি জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। মাস্টার ডিগ্রি পড়তে চার আমেরিকায় যাওয়ার কথা ছিল। কয়েকদিনের মধ্যেই আমেরিকায় উড়ে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু তার আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে গেলেন। আপাতত তাকে রাখা হয়েছে মুম্বইয়ের জেলে। বুধবার তাকে ধরে মুম্বই পুলিশ। দশম শ্রেনীর টপার রাম নাগেশ।

তার পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, ছেলের এরকম কাণ্ড কারখানা সম্পর্কে তারা কিছুই জানত না। বরং পরিবারের কাছে সে ছিল একজন মনযোগী পড়ুয়া। আইআইটি-জেইই-তে ২৩৬৭ র‍্যাঙ্ক করেছিল রাম নাগেশ। সঙ্গে তার প্রচন্ড ক্রিকেটের নেশাও ছিল। ভারতের পারফর্মেন্সে হতাশ ছিল সেটা জানিয়েছে তার পরিবার। কিন্তু সে যে ট্রোলিংয়েরও মাস্টার হয়ে উঠেছিল তা কারও জানা ছিল না। পুলিশ জানতে পেরেছে বিভিন্ন নামে ও পরিচয়ে সে অনলাইন ট্রোলিং করত। তার পরিবারের দাবি, কোনওভাবে ভুলবশত বা ভুল টাইপ হয়ে যাওয়ার জন্যই এমনটা হয়েছে। চশমা না থাকায় এটা হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গেই সেটা ডিলিট করে দেয় সে। যদিও ততক্ষণে অনেক দেড়ি হয়ে গিয়েছে।

টুইটের স্ক্রিনশট সামনে চলে আসে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই। রাম নাগেশ নিজেকে পাকিস্তানের প্রমান করার জন্য টুইটার হ্যান্ডেলে নাম ও পরিচয় পরিবর্তন করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে এমনটাই শোনা যায় যে পাকিস্তান থেকে এই টুইট করা হয়েছে। কিন্তু পরে তা পরিষ্কার হয়। এবং তার টুইটার হ্যান্ডল ট্র্যাক করে জানা যায় এই টুইট ভারত থেকেই করা হয়েছিল। এরকম বেশ কিছু টুইটার হ্যান্ডল রয়েছে তার বিভিন্ন নামে। কেন সে এমন করত, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। টেক স্যাভি হওয়ায় এটিই নেশা ছিল নাকি কোনও মানসিক সমস্যা নাকি ঠান্ডা মাথায় বুঝে শুনেই পুরো ঘটনাটি ঘটিয়েছিল রাম?

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবরে

(জাস্ট দুনিয়ার ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন)