সুশান্ত সিং রাজপুত মৃত্যুতে অভিযোগের কেন্দ্রে রিয়া, সিবিআই তদন্তে ‘না’ সুপ্রিম কোর্টের

সরি বাবু

জাস্ট দুনিয়া ডেস্ক: সুশান্ত সিং রাজপুত কি সত্যিই আত্মহত্যা করেছিলেন? এর মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে হচ্ছে না সিবিআই তদন্ত। পুলিশের উপরই আস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই নানা প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছিল যা এই মুহূর্তে অনেক তথ্য প্রমান দেখে সত্যি বলেই মনে হতে পারে। আর সেই সন্দেহের কেন্দ্রে সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী। প্রথম থেকেই তাঁর দিকে আঙুল উঠছিল। পরিচালক মহেশ ভাটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং তা নিয়ে সুশান্তের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে প্রভাব সবই ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। তবুও তিনি নানা ভাবে এর থেকে বাইরেই ছিলেন। কিন্তু সুশান্তের বাবার তাঁর বিরুদ্ধে একটা এফআইআর অনেক কিছু সামনে এনে দিয়েছে।

সুশান্তের মৃত্যু যে দেশ জুড়ে এমন আলোড়ণ সৃষ্টি করবে তা হয়তো তাঁর মৃত্যু কামনা করা মানুষগুলো দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি। তাই খুব সহজেই অনেক কিছু করে গিয়েছিলেন। কিন্তু গোটা দেশ এখন সুশান্তের মৃত্যুর কারণ জানতে চায়। তার মধ্যে রিয়ার বিরুদ্ধে বিহার পুলিশে এফআইআর এবং বিহার পুলিশের তদন্ত অনেক কিছুর উপর থেকে একটু একটু করে পর্দা সরাতে শুরু করেছে।

সুশান্তের বাবাসহ গোটা দেশ মুম্বই পুলিশের তদন্তের উপর অনাস্থা প্রকাশ করছে নিয়মিত। আর সে কারণেই বিহার পুলিশে তিনি সুশান্তের বান্ধবীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। মাঝে নজর ঘোরাতে রিয়া চক্রবর্তী সিবিআই তদন্তের দাবি করে বসেছিলেন।

কিন্তু কেন রিয়ার দিকে সন্দেহ ক্রমশ বাড়ছে?

লকডাউনের সময় সুশান্তের সঙ্গেই ছিলেন রিয়া। কিন্তু ১৪ জুন সুশান্তের মৃত্যুর কয়েকদিন আগে তিনি সেই ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যান। যা নিয়ে তৈরি হয়েছে সন্দেহ। এবং এও জানা যায় মৃত্যুর আগে রিয়াকে ফোনও করেছিলেন সুশান্ত কিন্তু তিনি সেই ফোন ধরেননি। রিয়ার পাতা ফাঁদে তিনি পা দিয়ে দিয়েছেন, এমনটাও নাকি জানিয়েছিলেন সুশান্ত তাঁর দিদিকে। তিনি যে আতঙ্কে আছেন তাও জানিয়েছিলেন।

রিয়ার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ তোলা হয়েছে…

প্রথমে সুশান্তকে নানা কারণ দেখিয়ে বাড়ি বদল করতে বাধ্য করেন রিয়া। আগের বাড়িতে নাকি ভুত রয়েছে এমনটাই জানতে পেরেছিল সুশান্তের বাড়ির লোক। দ্বিতীয়ত, সুশান্তের সব থেকে বিশ্বস্ত দেহরক্ষীকে তাড়িয়ে দেন রিয়া। সেটা লকডাউনের ঠিক আগের ঘটনা।

সুশান্তকে তাঁর পরিবার থেকে দূরে রাখতেন রিয়া। যে কারণে রিয়া সম্পর্কে কখনও কিছু বাড়ির লোকদের বলেননি সুশান্ত। সুশান্তের একটি অ্যাকাউন্টে ১৭ কোটি টাকা ছিল। সেখান থেকে ১৫ কোটি টাকা অন্য একটি অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয় যে অ্যাকাউন্ট সুশান্তের নয়।

তদন্তে জানা যাচ্ছে সুশান্তের ল্যাপটপ, হার্ডডিস্ক, মোবাইল ফোন, ক্রেডিট কার্ড সব নিয়ে গিয়েছিলেন রিয়া। সঙ্গে বাড়িতে থাকা টাকা ও কিছু গয়নাও। জানা গিয়েছে নানা বিষয় দেখিয়ে সুশান্তকে ভয় দেখাতেন রিয়া। সুশান্তের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশার আত্মহত্যার ঘটনায়ও সুশান্তের জরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়েছিলেন রিয়া।

এর মধ্যেই সুশান্তের প্রাক্তন প্রেমিকা অঙ্কিতা লোখাণ্ডের একটি টুইট অনেক কিছুর উপর থেকে পর্দা তুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তিনি লেখেন, ‘‘ট্রুথ উইনস।’’ কী সত্যির কথা তিনি বলতে চেয়েছেন তা সময়ই বলবে। কিন্তু রিয়ার বিরুদ্ধে যখন একাধিক অভিযোগ তখন এই টুইট অন্য বার্তা তো দিচ্ছেই।

সুশান্তের চিকিৎসার কাগজপত্র নিজের সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন রিয়া। কিসেরর টিকিৎসা হচ্ছিল এবং কী ওষুধ খাচ্ছিলেন সুশান্ত তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়। শোনা যাচ্ছে বিহার পুলিশ মুম্বই পৌঁছে রিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাননি। তাঁর বাড়িতে সেদিন সকালেই যেতে দেখা গিয়েছিল বিখ্যাত আইনজীবি আনন্দিনী ফার্নান্ডেজকে। হয়তো তিনি আগাম জামিনের চেষ্টাই চালাচ্ছেন।

এর শেষ কোথায়? আদৌ কি জাস্টিস পাবেন সুশান্ত সিং রাজপুত ? মুম্বই পুলিশ, বিহার পুলিশ থেকে সুশান্ত সিং রাজপুত মৃত্যু রহস্য কি আদৌ সিবিআই-এর হাতে যাবে? এই সব নানা প্রশ্নই ঘুরছে নেট দুনিয়ায়। তবে সুশান্তের পরিবারের প্রথম পদক্ষেপ অনেকটাই রাস্তা খুলে দিয়েছে তদন্তের।

(বিনোদন জগতের আরও খবরের জন্য ক্লিক করুন এই লিঙ্ক)

(জাস্ট দুনিয়ার ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন)