আছড়ে পড়ল ইয়াস, ভরা কোটালের মধ্যে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল সমুদ্র

আছড়ে পড়ল ইয়াস

জাস্ট দুনিয়া ব্যুরো: আছড়ে পড়ল ইয়াস সকাল ৯.১৫ নাগাদ বালেশ্বরের দক্ষিণে। শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড় শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি বার বার পরিবর্তন করল দিক, ল্যান্ডফলের অবস্থান। ঘূর্ণিঝন ইয়াস ওড়িশায় আছড়ে পড়লেও তার প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী অঞ্চলে। পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এই ইয়াসের প্রভাবে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্থ। দীঘার সমুদ্রে প্রবল জলোচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। যার ফলে মূল রাস্তায় উঠে এসেছে সমুদ্র। সাগর, সুন্দরবন, ডায়মন্ডহারবারসহ সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে সব থেকে বেশি প্রভাব পড়েছে এই ঝড়ের।

এর মধ্যেই রয়েছে চন্দ্রগ্রহন। পূর্ণগ্রাস এই চন্দ্রগ্রহন চলবে ৩.১৫ থেকে ৬.২৩ পর্যন্ত। সঙ্গে জোয়ার। যার প্রভাবে সব জায়গায় জলের উচ্চতা অনেকটাই বেড়ে যাবে। যার প্রভাব মঙ্গলবারও দেখা গিয়েছে গঙ্গায়। যদিও এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব তেমনভাবে পড়েনি কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার উপর। সকাল থেকে যদিও অন্ধকার করেই ছিল। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে, কখনও রোদও উঠেছে।

সকালে যখন ধামরায় এই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ে তখন তার গতিবেগ ছিল ১৫০-এর কাছাকাছি। তার প্রভাবেই জল স্তর বাড়তে শুরু করে দীঘায়। মঙ্গলবার থেকেই বৃষ্টি চলছিল সেখানে। বুধবার তা ঝড়ের আকাড় নেয়। ইয়াস আছড়ে পড়ার পর দীঘায় হাওয়ার গতিবেগ ১০০ ছাড়িয়ে যায়। সঙ্গে প্রবল জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয়। সকাল ৯.১৫ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া চলতে থাকে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে ঝড়ের গতি কিছুটা কমে বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে তার প্রভাব ৯ ঘণ্টা থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ওড়িশা, বাংলার পর এই ঝড় চলে যাবে ঝাড়খণ্ডে। সেখানেও বিপুল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এর প্রভাবে বৃষ্টি চলবে। বেশি পরিমাণে আক্রান্ত জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ স্বভাবতই বেশি থাকবে। সখানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হবে। তবে কলকাতা বৃষ্টির সম্ভাবনা হালকা থেকে মাঝারি। উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলিতেও একই পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস। যা চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। তবে সময়ের সঙ্গে ক্ষিপ্রতা কমবে।

ঝড়ের কথা মাথায় রেখে যাতে কোনও দুর্ঘটনা না হয় সে কারণে বন্ধ করে রাখা হয়েছে কলকাতা সব উড়ালপুল। সেগুলো হল লকগেড, উল্টোডাঙা, চিংড়িঘাটা, গার্ডেনরিচ, পার্ক স্ট্রিট, তারাতলা, গড়িয়াহাট, মা ও এজিসি বোস রোজ উড়ালপুল। ওই পথে গেলে এই রাস্তা ধরবেন না। যদিও রাজ্য জুড়ে লকডাউনের জন্য রাস্তায় গাড়ি নেই বললেই চলে। তার উপর ঝড়ের আগাম সতর্কতায় এদিন গোটা শহর প্রায় জনমানবশূন্যই ছিল। সংবাদ মাধ্যম, পুলিশ এবং প্রশাসনের গাড়ি ছাড়া রাস্তায় কোনও গাড়ি এদিন তেমনভাবে দেখা যায়নি।

(প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবরে)

(জাস্ট দুনিয়ার ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন)