নিউটাউনে আইনজীবীর রহস্যমৃত্য ঘিরে ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি

খুন তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস

জাস্ট দুনিয়া ডেস্ক: নিউটাউনে আইনজীবীর রহস্যমৃত্যু , এ বার সন্দেহের তীর তাঁর স্ত্রীর দিকে। খুনের ষড়যন্ত্র, তথ্য লোপাটের জন্য মৃত আইনজীবীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সঙ্গে মামলা দায়ের হয়েছে আইনজীবীর শ্বশুরবাড়ির আরও চার জনের বিরুদ্ধেও।

ময়না তদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছে শ্বাসরোধে মৃত্যু হয়েছিল ওই আইজীবীর। সঙ্গে গলায়ও আঘাতের চিহ্ণ রয়েছে। তাতেই তদন্ত অন্য দিকে বাঁক নিয়েছে। বৃহস্পতিবার মৃত আইজীবী রজত দে-র স্ত্রী  অনিন্দিতা ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করেছে পুলিশ।

২৪ নভেম্বর মৃত্যু হয় এই আইজীবীর। তার পর থেকেই সন্দেহ ঘনীভূত হতে থাকে। স্ত্রী অনিন্দিতার বিভিন্ন রকমের কথায় সন্দেহ বাড়ে পুলিশের।

এর মধ্যেই রজতের ফোন থেকে জানা গিয়েছে মৃত্যুর আধঘণ্টা আগে পর্যন্তও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চ্যাট করেছেন রজত। তার মানে তিনি আত্মহত্যা করার মানসিকতায় ছিলেন না। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই রজতের মৃত্যুর খবর আসে।

শান্তিপুরে বিষ মদে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের

গত শনিবার নিউটাউনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল এই আইনজীবীর দেহ। তখন থেকে তার পর বার বার বয়ান বদলেছেন স্ত্রী অনিন্দিতা। একবার তিনি দাবি করেন, তিনি পাশের ঘরে শুয়ে ছিলেন। পাওয়ার কাট হয়ে যাওয়ায় উঠে পাশের ঘরে গিয়ে দেখেন রজত মাটিতে বসে রয়েছে। ডাকতে যেতেই পড়ে যান রজত।

তার পর আবার অনিন্দিতার দাবি, গলায় চাদর জড়িয়ে আত্মহত্যা করেছেন রজত। এখানে সন্দেহের শুরু। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সব হিসেব বদলে দিয়েছে। সেখানে গলায় সরু তারের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

আরও জানা যাচ্ছে সেই রাতে তাঁদের একমাত্র শিশু পুত্র বাড়ির পোষ্যকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন অনিন্দিতা। তাহলে কি পরিকল্পনা করেই এই খুন?

এ বার বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার জ্ঞানবন্ত সিং স্বয়ং তদন্তে নেমেছেন। অনিন্দিতাকে থানায় ডেকে পাঠিয়েও একপ্রস্থ জেরা করা হয়েছে। তার আগে বাড়িতেও জেরা করা হয়। রজতের পরিবারের দাবি খুনই হয়েছেন রজত। আর অভিযোগের তীর স্ত্রী অনিন্দিতার দিকেই। তৃতীয় ব্যাক্তি থাকার কথাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।