ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় কলকাতা হাইকোর্টকে চ্য্যালেঞ্জ রাজ্যের

পেগাসাস-কাণ্ডে আদালতে হলফনামা

জাস্ট দুনিয়া ব্যুরো: ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় কলকাতা হাইকোর্টকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ রাজ্য সরকার। বুধবার শীর্ষ আদালরতে পিটিশ জমা দেওয়া হয়েছে রাজ্যের তরফে। কিছুদিন আগেই ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় সিটের পাশাপাশি সিবিআই তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই মতো কাজও শুরু করে দিয়েছিল সিবিআই। বেশ কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে রাজ্যের হিংসা কবলিত অঞ্চলে ঘুরে তাঁরা তথ্য জোগার ও তদন্ত শুরু করেছিল। সেই সময়ই রাজ্যের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল তারা উচ্চ আদালতে যাবে। সেই মতো এদিন সেই পথে প্রথম পদক্ষেপ রেখেই ফেলল রাজ্য।

এই পিটিশনে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, সিবিআই কেন্দ্র সরকারের হয়ে কাজ করছে সেকারণে স্বচ্ছ্ব তদন্ত হবে এমনটা আশা করা যাচ্ছে না। তাই হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে এই পিটিশন দাখিল করা হচ্ছে। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে প্রথম থেকেই উত্তপ্ত ছিল রাজ্য রাজনীতি। ভোটের আগে থেকেই ধিকি ধিকি জ্বলছিল হিংসার আগুন। ভোট মিটতে তা বড় আকাড় ধারণ করে। এমনকী ভোটের মধ্যেই হিংসা মানুষের প্রাণ কেড়েছে। ২ মে ফল প্রকাশের পর দেখা যায় বিপুল ভোটে জিতে বাংলা নিজেদের দখলেই রেখেছে তৃণমূল। কিন্তু তার পরও হিংসা থামেনি। বিজেপির তরফে অভিযোগ ওঠে, তাদের কর্মী সমর্থকরা হিংসার শিকার হচ্ছে।

সেই অভিযোগে খুন, ধর্ষণ সবই ছিল। যা পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছয়। জমা পড়ে একাধিক অভিযোগ। নড়েচড়ে বসে আদালত। সব খতিয়ে দেখে আদালতের তরফে মানবাধিকার কমিশনকে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। মানবাধিকার কমিটির দল রিপোর্ট জমা দিলে তাতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেই আঙুল ওঠে। তবে আদালতে তাঁদের রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন আইজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তিনি পাল্টা মানবাধিকার কমিশনের সদস্যদের নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টকে পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দেওয়া হয়। সরগরম হয়ে ওঠে আদালত।

ভোট চলাকালীন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের হাতে ছিল না। তা চলে গিয়েছিল নির্বাচন কমিশনের হাতে। যে সময় এই হিংসার ঘটনা ঘটেছে তখন আইন শৃঙ্খলা সামলাচ্ছিল নির্বচন কমিশন। যতবারই রাজ্যের হিংসা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ততবারই এই তত্ত্ব সামনে এসেছে। তার পরও বার বার রাজ্য সরকারের দিকে কেন আঙুল উঠছে? সেই প্রশ্নও উঠেছে বার বার।

(প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবরে)

(জাস্ট দুনিয়ার ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন)