লকডাউনে আত্মহত্যা বাড়ছে, এ বার দুই ছেলেকে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা মা-র

লকডাউনে আত্মহত্যা

জাস্ট দুনিয়া ডেস্ক: লকডাউনে আত্মহত্যা ক্রমশ বাড়ছে। মানুষকে আর কোথায় নিয়ে যাবে তার হিসেব এখনই করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ এই লকডাউন চলবে আরও কতদিন কে জানে। লকডাউন উঠে গেলে বাড়বে ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। তার মধ্যেই অনেক জায়গায় শিথিল করা হয়েছে আর প্রতিদিনই গোটা দেশ জুড়ে রেকর্ড হচ্ছে আক্রান্ত ও মৃতের। তার মধ্যেই হতাশায় লকডাউনে আত্মহত্যা -র পথ বেছে নিচ্ছে সমাজের উঁচুতলা থেকে নিচুতলার মানুষ। আজ সবাই এক। আবার কলকাতায় লকডাউনে আত্মহত্যা স্বপরিবারে তবে এবার বেঁচে গেলেন তাঁরা।

রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকার ঘটনা। দুই ছেলেকে নিয়ে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক মা। কতটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়লে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে একজন মা এই সময় তারই প্রমান দিচ্ছে। আশঙৱ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের সবাইকে ভর্তি করা হয়েছে বাঘাযতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালে।

মা ও দুই ছেলের সংসার কোনও রকমে চলত। কিন্তু লকডাউনে বন্ধ হয়ে যায় সব রোজগারের রাস্তা। আর্থিক অনটনে ভুগছিল গোটা পরিবার বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত ও প্রতিবেশীদের বয়ানের উপর ভিত্তি করে তেমনটাই মনে করা হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মা ও দুই ছেলে। সকাল ১০টা নাগাদ তিনজনকে সোনালি পার্ক আবাসনের ঘর থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মায়ের বয়স ৬৭ বড় ছেলের বয়স ৪২ ও ছোট ছেলের বয়স ৩৫। বড় ছেলে এক আইজীবীর কাছে কাজ করতেন। আদালত আপাতত বন্ধ, যে কারণে কাজ চলে গিয়েছে তাঁর। মা ইমিটেশনের গয়না বিক্রি করতেন। এখন সেটাও বন্ধ। ছোটছেলে বিশেষভাবে সক্ষম হওয়ায় তিনি বাড়িতেই থাকতেন।

তিন জনের পরিবার চলার মতো এক টাকাও রোজগার ছিল না তাঁদের। তবে পুলিশ তদন্ত করছে। সকলের জ্ঞ্যান ফিরলে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হতে চাইছে পুলিশ।

এর আগে ছেলেকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছিল এক বৃদ্ধ দম্পতি। সেখানেও উঠে এসেছিল উপার্জনের কথা। ঠাকুরপুকুরের সত্যনারায়ণপল্লির বাসিন্দা গোবিন্দ কর্মকার (৮০), তাঁর স্ত্রী রুনু (৭০) এবং ছেলে দেবাশিস (৫০)। তাঁরাও বিষ খেয়েই আত্মঘাতী হয়েছিলেন। বছর আশির গোবিন্দবাবু আগে চাকরি করতেন একটি বেসরকারি সংস্থায়। তাঁদের অ্যাসবেস্টসের ছাউনি দেওয়া একটি দু’কামরার বাড়ি রয়েছে সত্যনারায়ণপল্লিতে। ছেলে দেবাশিস জন্ম থেকেই পঙ্গু।

বছর কুড়ি আগে বেসরকারি সংস্থা থেকে অবসর নেওয় গোবিন্দবাবুই ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। সঙ্গে কিছু পুরনো জমানো টাকা ছিল। এর মধ্যেই কয়েক দিন আগে তাঁর স্ত্রী রুনু হৃদরোগে আক্রান্ত হন। বছর সত্তরের রুনুদেবী দু’সপ্তাহ হাসপাতালে কাটিয়ে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু তাঁরও ডান দিক পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। চিকিৎসা করাতে গিয়ে লকডাউনের মধ্যে তীব্র হয়েছিল আর্থিক সঙ্কটও।

(কলকাতার আরও খবর পড়তে এখানে ক্লিক করুন)

(জাস্ট দুনিয়ার ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন)