ঠাকুরপুকুরে আত্মঘাতী স্বামী-স্ত্রী-ছেলে, আর্থিক সঙ্কট থেকেই কি? মিলল সুইসাইড নোট

ঠাকুরপুকুরে আত্মঘাতী স্বামী-স্ত্রী-ছেলেঠাকুরপুকুরে আত্মঘাতী স্বামী-স্ত্রী-ছেলে

জাস্ট দুনিয়া ডেস্ক: ঠাকুরপুকুরে আত্মঘাতী স্বামী-স্ত্রী-ছেলে, আর্থিক সঙ্কট থেকেই কি এমন ঘটল, তদন্তে নেমে তেমনটাই প্রাথমিক ধারণা পুলিশের। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন ঠাকুরপুকুরের সত্যনারায়ণপল্লির বাসিন্দা গোবিন্দ কর্মকার (৮০), তাঁর স্ত্রী রুনু (৭০) এবং ছেলে দেবাশিস (৫০)। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ গোবিন্দবাবুর বাড়ির দরজা ভেঙে একটি ঘর থেকে তিন জনের দেহ উদ্ধার করে। সেই দেহ তিনটি বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বাড়ি থেকে একটি বাটি উদ্ধার হয়েছে, যার গায়ে লেখা ছিল— সাবধান, বিষ। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান বিষ খেয়েই আত্মঘাতী হয়েছেন ওই তিনজন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে তাদের অনুমান, আর্থিক সঙ্কট এবং অসুস্থতার জন্যই হয়তো আত্মহত্যা করেছেন গোবিন্দবাবুরা। তবে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি নয় পুলিশ।


কলকাতার আরও খবর পড়তে এখানে ক্লিক করুন

প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর আশির গোবিন্দবাবু আগে চাকরি করতেন একটি বেসরকারি সংস্থায়। তাঁদের অ্যাসবেস্টসের ছাউনি দেওয়া একটি দু’কামরার বাড়ি রয়েছে সত্যনারায়ণপল্লিতে। ছেলে দেবাশিস জন্ম থেকেই পঙ্গু। বছর কুড়ি আগে বেসরকারি সংস্থা থেকে অবসর নেওয় গোবিন্দবাবুই ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। সঙ্গে কিছু পুরনো জমানো টাকা ছিল। এর মধ্যেই কয়েক দিন আগে তাঁর স্ত্রী রুনু হৃদরোগে আক্রান্ত হন। বছর সত্তরের রুনুদেবী দু’সপ্তাহ হাসপাতালে কাটিয়ে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু তাঁরও ডান দিক পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, দীর্ঘ দিন ধরেই আর্থিক সঙ্কটে ভুগছিলেন গোবিন্দবাবু। স্ত্রী রুনু হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর অস্ত্রোপচারও করতে হয়। এই চিকিৎসার কারণে জমানো টাকার প্রায় সবটাই খরচ হয়ে গিয়েছিল। লকডাউনের মধ্যে তীব্র হয়েছিল আর্থিক সঙ্কটও।

সে কারণেই এই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একটি সুইসাইড নোটও খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। সেখানে স্পষ্ট আত্মহত্যার কথা লেখা রয়েছে। তিনি লিখেছেন, তাঁর অসহায় ছেলে ও স্ত্রী-র প্যারালিসিস। তাঁরও শরীর ভাল নাই। তাই তাঁরা তিন জনেই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পুলিশ এই সুইসাইড নোটও খতিয়ে দেখছে বলে জানানা হয়েছে।


(জাস্ট দুনিয়ার ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন)