ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তদন্তে শুক্রবারের পর আজ সিবিআই কোচবিহার ও হাওড়ায়

ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে

জাস্ট দুনিয়া ডেস্ক: ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তে নেমেছে সিবিআই। খুন, খুনের চেষ্টা, অস্ত্র আইন, অনধিকার প্রবেশ, অপহরণ এবং ধর্ষণের যত মামলা হয়েছে, সেগুলোই তদন্ত করে দেখছে কেন্দ্রীয় ওই গোয়েন্দা সংস্থা। গত সপ্তাহের শুরু থেকেই তারা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। শনিবার সিবিআইয়ের একাধিক দল পৌঁছয় কোচবিহার ও হাওড়ায়। কোচবিহার জেলায় ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় ৫টি মামলার তদন্ত করতে এ দিন ওই জেলায় গিয়েছে সিবিআইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি দল।

সিবিআইয়ের ১৬ জনের একটি প্রতিনিধি দল তুফানগঞ্জের চিলাখানা এলাকায় তৃণমূল কর্মী শাহিনুর রহমান খুনের ঘটনার তদন্ত করতে যায়। শাহিনুর রহমানের খুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি ওই ঘটনায় অভিযুক্ত বিজেপিকর্মী রামপালের বাড়িতেও যায় সিবিআইয়ের ওই দল। এ ছাড়াও তারা দিনহাটার পেটলায় বিজেপিকর্মী হারাধন রায়ের খুনের ঘটনাস্থল এবং শীতলকুচির বিজেপিকর্মী মানিক মৈত্রের খুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। দিনহাটা শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপিকর্মী ধনঞ্জয় দেবনাথ এবং অজয় রায়ের বাড়িঘর ভাঙচুরের বিষয়ে উদয়ন গুহের বিরুদ্ধে যে মামলা রয়েছে সেই ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করে তারা।কোচবিহারের পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানান, সিবিআই পাঁচটি ঘটনার তদন্ত করতে কোচবিহারে এসেছে। আজ তুফানগঞ্জ, দিনহাটা এবং শীতলকুচিতে বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করে তারা। অন্য দিকে, ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তদন্তে সিবিআই এ দিন হাওড়ার লিলুয়া ও ডোমজুড় এলাকায় আক্রান্ত বিজেপিকর্মীদের বাড়ি যায়। তদন্তকারীরা কথা বলে রিপোর্ট সংগ্রহ করেন।

গত কাল শুক্রবার ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তদন্তে সিবিআই বীরভূম জেলার একধিক জায়গায় যায়। দু’টি দলে বিভক্ত হয়ে জেলার খয়রাশোল ব্লকের কাঁকড়তলা থানার অন্তর্গত বিজেপি সভাপতি মিঠুন বাগদির বাড়ি যায়। তার পর ইলামবাজার থানার কামারপাড়া এলাকার বিজেপি সমর্থক মৃত গৌরব সরকারের বাড়িতেও যায় তারা। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বীরভূমের কাঁকড়তলা থানার নবসন গ্রামে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয় রাজু বাগদি নামে এক যুবকের। সেই সময় ওই যুবককে খুন করা হয়েছিল বলে দাবি করে পরিবার। ওই ঘটনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেফতার করা হয় প্রতিবেশী মিঠুন বাগদি নামে বিজেপির এক বুথ সহ সভাপতিকে। তিন মাস জেলে থাকার পর মে মাসের শেষের দিকে জামিনে মুক্তি পায় মিঠুন।

অন্য দিকে, গত কাল নদিয়ার চাপড়ায় ধর্ম মণ্ডল খুনের অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। সিবিআইয়ের দলকে ঘিরে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। ওই দিনই উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় বিআরএস কলোনির বাসিন্দা কমল মণ্ডলের বাড়িতে পৌঁছয় সিবিআইয়ের দল। অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার দিন রাতে কমলবাবুর বাড়িতে দুষ্কৃতীরা চড়াও হয়। কমলবাবু ও তাঁর স্ত্রীকে মারধরের পাশাপাশি কমলবাবুর বৃদ্ধা মা শোভারানি মণ্ডলকেও বাঁশপেটা করা হয়। সেই রাতেই কল্যাণীর একটি হাসপাতালে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। ঘটনার পিছনে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের যুক্ত থাকার অভিযোগ করে বিজেপি। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তৃণমূলের এক ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটরের দাদাকে গ্রেফতারও করেছিল জগদ্দল থানা। স্থানীয়েরা জানান, শুক্রবার প্রায় পৌনে দু’ঘণ্টা কমলবাবুর বাড়িতে ছিল সিবিআইয়ের দলটি।

(জাস্ট দুনিয়ার ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন)