বিজেপির নবান্ন অভিযা‌ন, সেদিনই বন্ধ রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর

বিজেপির নবান্ন অভিযা‌ন

জাস্ট দুনিয়া ডেস্ক: বিজেপির নবান্ন অভিযা‌ন রয়েছে, কিন্তু সেই দিনই স্যানিটাইজ করা হবে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর। আর সে কারণেই পর পর দু’দিন নবান্ন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ফলে বিজেপির অবস্থা এখন— না যাচ্ছে গেলা, না যাচ্ছে উগরানো। তবে বুধবার রাত পর্যন্ত বিজেপির নবান্ন অভিযা‌ন স্থগিত রাখার কোনও সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়নি। পাশাপাশি কলকাতা ও হাওড়া সিটি পুলিশ বিজেপির নবান্ন অভিযা‌ন ঠেকাতে রীতিমতো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। প্রায় চার হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে ওই অভিযান রুখতে।

রাজ্যে ‘গণতন্ত্র ফেরানো’ এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের দাবিতে বৃহস্পতিবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে বিজেপির যুব মোর্চা। চারটি মিছিল শহর থেকে নবান্নের উদ্দেশে বেরোবে। বিজেপির তরফে এমনটাই জানানো হয়েছে। রাতেই শহরে চলে এসেছেন যুব মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি তেজস্বী সূর্য।

মিছিল যে যে পথে যাবে বলে জানা গিয়েছে—  মুরলীধর লেন থেকে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ হয়ে মহাত্মা গান্ধী রোড, বড়বাজার, হাওড়া ব্রিজ। আর একটি হেস্টিংস সেন্ট জর্জেস গেট রোড থেকে হেস্টিংস মাজার। আর একটি টার্ফভিউ থেকে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর এজেসি বসু র‍্যাম্প। অন্যটি হাজরা মোড় থেকে এস পি মুখার্জি রোড হয়ে এটিএম রোড, এক্সাইড মোড়, এজেসি বসু রোড, টার্ফভিউ। হাওড়ায় বঙ্গবাসী ময়দান থেকে জি টি রোড হয়ে নবান্ন। আর একটি ফরশোর রোড থেকে নবান্ন। অন্যটি বেতড় মোড় থেকে কোনা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে নবান্ন।

দুপুর একটা থেকে বিজেপির এই অভিযান শুরু হলেও পুলিশ কিন্তু সকাল ৯টা থেকেই রাস্তায় থাকবে। বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির মিছিল আটকানোর চেষ্টা হবে। কিন্তু এ সবের মধ্যেই বড় চালটা চেলে কার্যত কিস্তি মাত করে দিয়েছে তৃণমূলের সরকার। বুধবার সন্ধ্যায় নির্দেশ জারি করা হয়েছে, কোভিড পরিস্থিতিতে নিয়মিত রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর জীবাণুমুক্ত করার কাজ হয়।

আগামিকাল বৃহস্পতি এবং পরশু শুক্রবার সেই কাজ করা হবে। তাই নবান্ন এবং মহাকরণ বন্ধ রাখা হবে। ওই দিন সমস্ত সরকারি কর্মীদের নবান্নে আসতে বারণ করা হয়েছে। ফলে ফাঁকা নবান্নে এসে বিজেপির যুব মোর্চা কী করবে, কাকেই বা স্মারক লিপি দেবে, তা বোঝা যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে বিজেপি উভয় সঙ্কটে পড়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা সরকারের নবান্ন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আসলে‘সাপও মরল, লাঠিও ভাঙল না’ গোছের পদক্ষেপ। অনেকে আবার বলছেন, আসলে হাতে না মেরে বিজেপিকে ভাতে মারল সরকারি এই সিদ্ধান্ত।

(বাংলার আরও খবর জানতে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে)

(জাস্ট দুনিয়ার ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন)