মুসৌরির জঙ্গলে বাঙালি তরুণীর দেহ, অভিযুক্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু

মুসৌরির জঙ্গলে বাঙালি তরুণীর দেহ

জাস্ট দুনিয়া ডেস্ক: মুসৌরির জঙ্গলে বাঙালি তরুণীর দেহ উদ্ধার ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। অভিযোগের কেন্দ্রে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু অঙ্কিক চৌধুরী। দুর্গাপুরের বাসিন্দা নিবেদিতা মুখোপাধ্যায়। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, দেহরাদুনে দোভাষীর কাজ করত নিবেদিতা। তার আগে দিল্লিতেও ছিলেন বছর দু’য়েক। সেখানে বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। সেখানেই তিনি কাজের পাশাপাশি রুশ ভাষা শেখেন। তার পরই দেহরাদুনে দোভাষী ও অনুবাদের কাজ নিয়ে যান। গত বছর সেখানেই এক বন্ধুর মাধ্যমে অঙ্কিতের সঙ্গে পরিচয় হয় নিবেদিতার। কনস্ট্রাকশনের ব্যবসা করে অঙ্কিত। তবে তিনি উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের ছেলে। দু’জনের সম্পর্ক প্রেমে গড়ায় এবং তাঁরা এক সঙ্গে থাকতে শুরু করেন।

তবে তাঁর লিভ-ইন করার কথা ২৫ বছরের নিবেদিতা তাঁর পরিবারকে লুকোননি। এর পর হঠাৎই মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ২৮ এপ্রিল শেষ কথা হয়েছিল নিবেদিতার সঙ্গে তাঁর পরিবারের। তার পর যতবারই কথা বলতে চেয়েছে ততবারই অঙ্কিত ফোন ধরেছে। এবং বাড়ির লোকের কাছে সে এক অভিনব গল্পও ফাঁদে। সে জানায় নিবেদিতা ঝগড়া করে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছে। এবং তার জন্য সে নিজে কতটা দুঃখে রয়েছে সেটাও প্রমান করা চেষ্টা করে কান্নাকাটি করে।

প্রথমে অঙ্কিতের কথা বিশ্বাস করলেও প্রায় দু’মাস বাড়ির মেয়ের সঙ্গে কথা না হওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয় পরিবারের। নিবেদিতার দিদি অন্তরাই উদ্যোগ নেন বোনের খোঁজ নেওয়ার। এদিকে অঙ্কিত একটা সময়ের পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এতদিন নিবেদিতার ফোন থেকে সেই কথা বলত তাঁর পরিবারের সঙ্গে। এর পর অঙ্কিতকে চেপে ধরায় সে স্বীকার করে নিবেদিতা মারা গিয়েছে। তবে ব্যালকনি থেকে পড়ে। এবং তাঁর সৎকারও সে করে ফেলেছে।

সন্দেহ আরও ঘনিভূত হয়। আর বসে না থেকে নিবেদিতার পরিবার দেরাদুনে ছুটে যায়। তখনই পুরো বিষয়টি সামনে চলে আসে। জানা যায় এটা সত্যি যে নিবেদিতা ব্যালকনি থেকেই পড়ে গিয়েছিল। তবে তা দুর্ঘটনা নয়। ঝগড়ার কারণে তিনি ব্যালকনি থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। তা দেখে আতঙ্কে নিবেদিতার দেহ নিয়ে যায় ১৫ কিলোমিটার দূরে মুসৌরির জঙ্গলে। সেখানে পেট্রল ঢেলে তা পুড়িয়ে দেয়। তবে এই ব্যাখ্যা কতটা সঠিক তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

নিবেদিতার পরিবারের তরফে অঙ্কিতের বিরুদ্ধে খুন ও দেহ লোপাটের অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে ফোনে না পেলেও এই দু’মাস অঙ্কিত নিবেদিতার ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ চালু রেখেছিল। এবং নিবেদিতার হয়ে সেই সকলের সঙ্গে কথা বলে যেত। জুনের মাঝামাঝি সময়ে দেহরাদুন পৌঁছন অন্তরা। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশের জেরায় অঙ্কিত স্বীকার করে নেয় নিবেদিতার দেহ মুসৌরির কিমরির জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে সে।

তার পরই সেই জঙ্গলে শুরু হয় তল্লাশি। সেখান থেকে উদ্ধার হয় মাথার খুলি, একটা হাত, পায়ের হাড়। ফরেন্সিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে সেগুলো নিবেদিতারই। তবে এখন পুলিশের দাবি, নিবেদিতা আদৌ ব্যালকনি থেকে পড়ে গিয়েছিলেন বা নিজে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তেমনটা নয়। তা নিয়েও কোনও মিথ্যে গল্পই ফাঁদছে অঙ্কিত। কারণ ব্যালকনিতে চার ফুট উঁচু গ্রিল লাগানো রয়েছে। অন্যদিকে সেই ফ্ল্যাটের অন্যান্য বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তাঁরা কখনও নিবেদিতাকে দেখেনইনি। এবং ব্যালকনি থেকে নিচে পড়লে আশপাশের কেউ দেখবে না সেটাও বিশ্বাসযোগ্য নয়।

এই পরিস্থিতিতে অনেকগুলো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। ব্যালকনি থেকে পড়ে গেলে নিবেদিতাকে হাসপাতালে নিয়ে না গিয়ে কেন জ্বালিয়ে দেওয়া হল, দ্বিতীয়ত, পড়ে মৃত্যু হলে কেন মৃতার হাত, পা কাটা অবস্থার উদ্ধার হল। এর পিছনে কোনও বড় রহস্য রয়েছে। সঙ্গে একা একা নিবেদিতার দেহ লোপাট করা সম্ভব ছিল না অঙ্কিতের পক্ষে। নিশ্চই তার সঙ্গে আরও কেউ ছিল। তাদেরও খোঁজ চলছে। এ ছাড়া নিবেদিতার মা-র সঙ্গে মাঝে এক মহিলা অঙ্কিতের ফোন থেকে কথা বলেছিলেন। কে সেই মহিলা তাঁরও খোঁজ করা হচ্ছে। তবে যাই হয়ে যাক, অঙ্কিতের চরম শাস্তি চায় নিবেদিতার পরিবার।

(প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবরে)

(জাস্ট দুনিয়ার ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন)