পঞ্চায়েত ভোট অনিশ্চিত, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

ভোট পরবর্তী হিংসা মামলা

জাস্ট দুনিয়া ডেস্ক: পঞ্চায়েত ভোট কি আদৌ নির্ধারিত দিনে হবে? বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট যা নির্দেশ দিয়েছে, তাতে কিন্তু সেই সংশয়ই তৈরি হয়েছে।

এ দিন হাইকোর্ট আগামী ১৬ এপ্রিল সোমবার পরবর্তী শুনানির আগে পর্যন্ত রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের যাবতীয় প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে এই সংক্রান্ত সম্পূর্ণ রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে আদালত। আর সেখান থেকেই প্রশ্নটা তৈরি হয়েছে, তবে কি আগামী ১, ৩ এবং ৫ মে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে? কারণ, প্রক্রিয়াটাই তো স্থগিত হয়ে গেল। পুণরায় প্রক্রিয়া চালুর পর তা শেষ করে ওই দিনগুলিতে আদৌ কি ভোটগ্রহণ সম্ভব!

তবে কি আগামী ১, ৩ এবং ৫ মে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে? কারণ, প্রক্রিয়াটাই তো স্থগিত হয়ে গেল।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হাইকোর্টের এ দিনের নির্দেশের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানাতে পারে। সেই বেঞ্চ যদি এই নির্দেশ খারিজ করে দেয়, তা হলেই একমাত্র নির্ধারিত দিনে ভোটগ্রহণ সম্ভব। কিন্তু, ডিভিশন বেঞ্চ যদি খারিজ না করে, তা হলে ওই দিনগুলিতে ভোটগ্রহণ প্রায় অসম্ভব। শোনা যাচ্ছে, রাজ্য সরকার ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানাতে পারে। তবে, এ দিন বিকাল পর্যন্ত তা করা হয়নি। আদালতের এ দিনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সব বিরোধীরাই।

বিদ্বজ্জন বাণে ফের বিদ্ধ তৃণমূল

এ দিন দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের এজলাসে পঞ্চায়েত নির্বাচন সংক্রান্ত মামলাটির শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে বিচারপতি ওই স্থগিতাদেশের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, আদালতে তথ্য গোপনের দায়ে তিনি মামলাকারীদের ৫ লাখ টাকা জরিমানাও করেন। এ ক্ষেত্রে হাইকোর্টে মামলাটি বিজেপি-র হয়ে দায়ের করেছিলেন প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জরিমানার ওই টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারপতি।

হাইকোর্টে মামলা করার সময় আবেদনকারীরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের বিষয়ে তথ্য গোপন করেন। সে কারণেই ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের নির্দেশিকা জারি হওয়ার পর থেকেই রাজ্য জুড়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কাজ শুরু হয়। সেই পর্বেই রাজ্য জুড়ে ব্যাপক হিংসার অভিযোগ ওঠে শাসক দলের বিরুদ্ধে। মারধর, বোমাবাজি, গুলি, ভাঙচুর, বিরোধীদের মনোনয়ন জমা না দিতে দেওয়া— এ সব নিয়ে বিজেপি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। শীর্ষ আদালত রায়ে জানিয়ে দেয়, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নাক গলাবে না। এ নিয়ে যা করার রাজ্য নির্বাচন কমিশনকেই করতে হবে। এর পরেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অমরেন্দ্রকুমার সিংহ নোটিস জারি করেন, আরও এক দিন মনোনয়ন জমা দেওয়ার মেয়াদ বাড়ানো হল। কিন্তু, আইনি জটিলতার কারণ দেখিয়ে পর দিন তা ফের খারিজ করে দেন তিনি। এই খারিজের বিরুদ্ধে ফের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায় বিজেপি। পাশাপাশি তারা কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা দায়ের করে।

বুধবার সেই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, যা বলার হাইকোর্টই বলবে। আর হাইকোর্টে মামলাকারীদের কেউ না হাজির থাকায়, শুনানি এক দিন পিছিয়ে দেন বিচারপতি তালুকদার। এ দিন সেই শুনানির সময় মামলাকারীদের ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি। কারণ হিসাবে তিনি জানান, হাইকোর্টে মামলা করার সময় আবেদনকারীরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের বিষয়ে তথ্য গোপন করেন। সে কারণেই ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সেই আবেদন প্রক্রিয়াগত কারণেই বাতিল হয়নি এখনও। কারণ, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ।    

অন্য দিকে, এ দিন বীরভূম জেলা পরিষদের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া বিজেপি-র চিত্রলেখা রায় তা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। এর ফলে ওই জেলা পরিষদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই দখল করতে চলেছে তৃণমূল। কিন্তু,  মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সেই আবেদন প্রক্রিয়াগত কারণেই বাতিল হয়নি এখনও। কারণ, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ।