ফিরহাদ হাকিম নতুন মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েই নিজের ফোন নম্বর দিলেন

ফিরহাদ হাকিমফিরহাদ হাকিম

জাস্ট দুনিয়া ডেস্ক: ফিরহাদ হাকিম নজির তৈরি করলেন। মন্ত্রী থেকে অভিনেতা-অভিনেত্রী, ক্রীড়াবিদ থেকে সমাজের নামজাদা লোকের ফোন নম্বর পেতে হিমশিম খেতে হয় সাধারণ মানুষকে। অনেক কষ্টে তা যাও জোগার করা গেল সেই প্রত্যাশিত ব্যাক্তির কাছে পৌঁছনো যায় না কোনওভাবেই। পৌঁছতে হলে অনেক অলিগলি ঘুরতে হয়। শেষ পর্যন্ত সেই কাজের প্রয়োজনও ফুরোয়, ফুরোয় ইচ্ছেও।

কিন্তু এ কেমন মেয়র যিনি দায়িত্ব নিয়েই সাংবাদিক সম্মেলন করে সবার আগে নিজের ব্যাক্তিগত ফোন নম্বরটিই দিয়ে দিলেন। পরিষ্কার করে বলে দিলেন, তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়া যে কোনও বিষয়ে যা অভিযোগ এই নম্বরে ফোন করে দিতে পারেন যে কেউ।

৯৮৩০০৩৭৪৯৩, হ্যাঁ ঠিকই দেখছেন। এটা সদ্য কলকাতা মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়া ফিরহাদ হাকিমের। মাইকের সামনে বসে দু’বার ফোন নম্বরটি বললেন ফিরহাদ। তার বলেন, ‘‘যেখানে নোংরা দেখবেন, পানের পিক দেখবেন, রাস্তা ভাঙা থেকে ব্রিজের ফাটল দেখবেন সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানাবেন। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে।’’

কলকাতা পুরসভা: শোভন বিদায়ে ফিরহাদ নয়া মেয়র, ডেপুটি হবেন অতীন

দায়িত্ব নিয়েই নতুন নজির গড়লেন ফিরহাদ। সাংবাদিক সম্মেলন সেরে চলে গেলেন তাঁর নতুন ঘরে যেখানে এতদিন বসতেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। সদ্য তাঁকে সরতে হয়েছে দায়িত্ব থেকে। সঙ্গে সঙ্গেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে ফিরহাদ হাকিমের হাতে। সোমবার তিনি সরকারিভাবে দায়িত্ব নিলেন।

দায়িত্ব নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার উপর আস্থা রেখেছেন। আমি সেই দায়িত্ব পালন করব।’’ তিনি জানিয়েছেন, শহরের সবুজ বাড়ানোর কাজে অনেক পদক্ষেপ নেবেন তিনি। সাধারণ মানুষও যেন তাএ সাড়া দেন। তাঁরা যেন নিজেদের জমিতে গাছ লাগান। যতটা জমিতে ফরেস্ট্রি করবেন ততটা জমির উপর ৯০ শতাংশ কর ছাড় দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

ইস্তফাপত্র দিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়

সোমবার বর্তমান মেয়রকে ভোট দেন প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ও। ফিরহাদ মোট ভোট পেয়েছেন ১২১টি। মোট ভোট পড়েছে ১২৬টি। পাঁচটি ভোট পেয়েছেন বিজেপির প্রার্থী।

ফিরহাদ হাকিম শপথ নেওয়ার পর তাঁকে প্রথম ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তিনি দায়িত্ব নিয়ে ধর্ম নয় কর্মের ডাক দিলেন প্রথম দিন থেকেই। সঙ্গে শহরে সবুজায়ন, জলাভূমি বাঁচানো, যেসব জায়গা বর্ষায় জলের তলায় তলিয়ে সেগুলোর সংস্কার, বজ্র দিয়ে সার তৈরি, বিমান বন্দর, রেলের জায়গায় বাগানের মতো একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রা শুরু করলেন কলকাতার নতুন মেয়র। যার সঙ্গে কলকাতা পেল তার প্রথম মুসলিম মেয়র।